শুক্রবার, ০৩ Jul ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন

শ্রীলংকার যাদুতে নিউজিল্যান্ড কুপোকাত

দুই সিরিজ হেরে হৃদয় ভাঙা শ্রীলঙ্কা এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজে নিজেদের মেলে ধরেছে। বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে সুপার ওভারে গিয়ে হারিয়ে দিয়েছে কিউইদের। যা এই সফরে তাদের প্রথম জয়।

শ্রীলঙ্কার নিউ জিল্যান্ড সফরটা বলতে গেলে অনেক কিছু কেড়ে নিয়েছে। টেস্ট সিরিজ হেরে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে খেলা হয়নি। ওয়ানডে সিরিজ হেরে ২০২৩ বিশ্বকাপে সরাসরি খেলার সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে তাদের।

অকল্যান্ডে শ্রীলঙ্কা আগে ব্যাট করতে নেমে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রান তোলে। জবাবে নিউ জিল্যান্ড ৮ উইকেট হারিয়ে ১৯৬ রান তোলে। সেটা সম্ভব হয় ইশ সোধির বীরত্বে। তিনি ইনিংসের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে স্কোর লেভেল করেন।

তাতে ম্যাচ গড়ায় সুপার ওভারে। সেখানে নিউ জিল্যান্ড আগে ব্যাট করে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৮ রান সংগ্রহ করে। শ্রীলঙ্কার মাহিশ থিকসানা ওভারের দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ বলে জিমি নিশাম ও মার্ক চ্যাপম্যানকে আউট করে ৮ রানের বেশি সংগ্রহ করতে দেননি। জবাবে শ্রীলঙ্কার চারিথ আসালঙ্কা নিউ জিল্যান্ডের অ্যাডাম মিলনের ওভারের দ্বিতীয় ও তৃতীয় বলে ছক্কা ও চার হাঁকিয়ে (নো বল হওয়ায় ৫ রান), তিন বলেই ১১ রান তুলে রোমাঞ্চকর এক জয় উপহার দেন শ্রীলঙ্কাকে।

শুধু সুপার ওভার নয়, তার আগে শ্রীলঙ্কার ১৯৬ রানের ইনিংসেও বড় অবদান রাখেন আসালঙ্কা। ৬৫ রানের মাথায় তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ধনঞ্জয়া ডি সিলভা আউট হলে কুশালা পেরেরাকে নিয়ে চতুর্থ উইকেটে ৬৮ বলে ১০৩ রান যোগ করেন দলীয় সংগ্রহে। দলীয় ১৬৮ রানের মাথায় ৪১ বলে ২ চার ও ৬ ছক্কায় ৬৭ রান করে ফেরেন তিনি। এরপর অধিনায়ক শানাকা ১ রান করে আউট হলেও পেরেরা ও ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ষষ্ঠ উইকেট জুটিতে অবিচ্ছিন্ন থেকে ১৭ বলে ২৫ রান তুলে দলীয় সংগ্রহকে ১৯৬ পর্যন্ত নিয়ে যান।

পেরেরা ৪৫ বলে ৪টি চার ও ১ ছক্কায় ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন। তার সঙ্গে ২ ছক্কায় ২১ রানে অপরাজিত থাকেন হাসারাঙ্গা।

বল হাতে নিউ জিল্যান্ডের জিমি নিসাম ৪ ওভারে ৩০ রান দিয়ে ২টি উইকেট নেন।

১৯৬ রান তাড়া করতে নেমে ৩ রানেই ২ উইকেট হারিয়ে বসে স্বাগতিকরা। সেখান থেকে ম্যাচটিকে রোমাঞ্চকর লড়াই পর্যন্ত নিয়ে যান ড্যারিল মিচেল, মার্ক চ্যাপম্যান, টম লাথাম, রাচিন রবীন্দ্র, জিমি নিশাম ও ইশ সোধি।

মিচেল ৫ চার ও ৩ ছক্কায় ৪৪ বলে সর্বোচ্চ ৬৬ রান করেন। চ্যাপম্যান ২ চার ও সমান সংখ্যক ছক্কায় করেন ৩৩ রান। এ ছাড়া লাথাম ২৭, রাচিন ২৬, নিশাম ১৯ ও সোধি অপরাজিত ১০ রান করেন।

শেষ ওভারে জিততে নিউ জিল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৩ রান। বল হাতে আসেন দাসুন শানাকা। প্রথম বলেই তিনি ফেরান মারমুখী হয়ে ওঠা রাচিন রবীন্দ্রকে। তার পরের চার বলে ৬ রান নিতে পারেন শোধি ও শিপলে। তাতে জিততে শেষ বলে ৭ রান প্রয়োজন ছিল। টাই করতে ৬ রান। শানাকার করা শেষ বলটি মিডউইকেট দিয়ে উড়িয়ে মেরে ম্যাচ সুপার ওভারে নিয়ে যান সোধি।

বল হাতে শ্রীলঙ্কার প্রমোদ মাদুশান, ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা ও দাসুন শানাকা ২টি করে উইকেট নেন।

ম্যাচসেরা হন চারিথ আসালঙ্কা।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com